অসংখ্য পাহাড় পর্বত, নদী, সমুদ্র ও বন-জঙ্গল ইত্যাদি বাধা-বিপত্তির জন্য বহুকাল পর্যন্ত বাংলাদেশে প্রবেশ সহজসাধ্য ছিল না। মুঘল যুগ পর্যন্ত এ ধারণা বদ্ধমূল ছিল যে, বাংলাদেশে প্রবেশ দুঃসাধ্য। তাই বাংলার ভৌগোলিক ও প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য কয়েক শত বছর এ অঞ্চলের স্বাতন্ত্র্য রক্ষা করে স্বাধীন রাজনৈতিক জীবন যাপনের সুযোগ দিয়েছিল। নিম্নে বাংলার ভূ-প্রকৃতির প্রভাব সম্পর্কে আলোচনা করা হলো :
১. অর্থনৈতিক কার্যবলীর উপর ভূ-প্রকৃতির প্রভাব : বাংলাদেশের ভূ-প্রকৃতির অনুসঙ্গে অর্থনৈতিক অবস্থাকে প্রভাবিত ও নিয়ন্ত্রিত করে থাকে। গ্রীষ্ম ও বর্ষাকালে বঙ্গোপসাগর থেকে আগত দক্ষিণ পশ্চিম মৌসুমী বায়ু এবং পাহাড়ও বাধাগ্রস্ত হয়ে ব্যাপক বৃষ্টিপাত ঘটায়। এ বৃষ্টির ফলে বাংলাদেশে কৃষিকাজে অভাবনীয় উন্নতি লাভ করেছে। শীতকালের উত্তর-পূর্ব মৌসুমী বায়ু এসব পাহাড়কে বাধাগ্রস্ত হয়ে খুব সামান্য বৃষ্টিপাত ঘটায়।মৌসুমী বায়ু এসব পাহাড়ে বাধাগ্রস্ত হয়ে সামান্য বৃষ্টিপাত ঘটায়। এর ফলে শীতকালে বাংলাদেশে বিপুল পরিমাণে রবিশস্য জন্মে। এ বৃষ্টির ফলে বাংলাদেশে কৃষিকাজে অভাবনীয় উন্নতি লাভ করেছে। এসব বনভূমি থেকে প্রচুর মূল্যবান বনভূমি জন্মায়। এছাড়াও অধিক বৃষ্টিপাত বহুল পাহাড়ী অঞ্চলে বনভূমির সৃষ্টি হয়েছে। এসব বনভূমি থেকে প্রচুর মূল্যবান ববিসসা জন্মায়। কাঠ ও অন্যান্য বনজ সম্পদ সংগ্রহ করা হয়। এ সব অঞ্চলের পাহাড়ের ঢালে চা, রাবার, আনারস ইত্যাদির চাষ হয়। পাহাড়ি নদী জলবিদ্যুৎ উৎপাদনে সহায়তা করে। যেমন- রাঙ্গামাটি জেলায় পার্বত্য নদী কর্ণফুলিতে বাঁধ দিয়ে জলবিদ্যুৎ উৎপাদন করা হচ্ছে। বাংলাদেশের উঁচু ভূমির অধিকাংশ পাহাড়ী বৃক্ষের বনভূমিতে সমৃদ্ধ।